মুরগির বিষ্ঠা – উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার

মুরগির বিষ্ঠা অন্যতম একটি উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসেবে পরিচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদ করতে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে জৈব সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালন করে।

জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠার উপকারিতা

উচ্চ মাত্রার পুষ্টি উপাদান – মুরগির বিষ্ঠায় নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), এবং পটাশিয়াম (K)-এর পরিমাণ বেশি থাকে, যা উদ্ভিদের জন্য প্রধান পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান গাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

মাটির গুণগত মান উন্নয়ন – এই জৈব সার ব্যবহারে মাটির পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং এর বায়ুচলাচল উন্নত হয়। এটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।

রাসায়নিক সারের বিকল্প – বহু কৃষক রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষয় ও পরিবেশ দূষণের সম্মুখীন হন। মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে এই সমস্যা দূর হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন – মুরগির বিষ্ঠা থেকে প্রস্তুতকৃত সার ব্যবহারে মাটির মধ্যে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দমন হয়, যা ফসলের জন্য উপকারী।

উৎপাদন ব্যয় হ্রাস – এই সার কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যের একটি প্রাকৃতিক বিকল্প, যা চাষাবাদের খরচ কমাতে সাহায্য করে।

মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে কিভাবে জৈব সার তৈরি করবেন?

মুরগির বিষ্ঠাকে সরাসরি জমিতে প্রয়োগ করা হলে এটি উচ্চমাত্রার অ্যামোনিয়া ও অতিরিক্ত নাইট্রোজেনের কারণে উদ্ভিদের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা জরুরি। নিচে মুরগির বিষ্ঠা থেকে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি দেওয়া হলো।

কাঁচামাল সংগ্রহ – প্রথমে ফার্ম বা খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করতে হবে। বিষ্ঠার সঙ্গে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান যেমন খড়, পালক ইত্যাদি আলাদা করে নিতে হবে।

পচন ও কম্পোস্টিং প্রক্রিয়া – মুরগির বিষ্ঠাকে কম্পোস্টিং করতে ৫০-৬০ দিন সময় লাগে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীব বিষ্ঠার ক্ষতিকারক উপাদান ভেঙে পরিবেশবান্ধব সার তৈরি করে।

কম্পোস্টিং পদ্ধতি:

  • জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠাকে শুকনো জায়গায় স্তূপ করে রাখুন।
  • প্রতি ১৫ দিন অন্তর ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
  • স্তূপের ভেতরের তাপমাত্রা ১৩০-১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
  • ২-৩ মাস পর এটি ব্যবহারের উপযোগী হবে।

সার শুকানো ও সংরক্ষণ – যখন কম্পোস্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তখন সারের আর্দ্রতা কমানোর জন্য রোদে শুকাতে হবে। এরপর এটি বস্তাবন্দী করে শুকনো ও ছায়াযুক্ত জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

জমিতে প্রয়োগের নিয়ম – সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে, যাতে গাছের কোনো ক্ষতি না হয়। প্রতি শতক জমিতে ২-৩ কেজি সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করার কিছু সতর্কতা

  • সরাসরি কাঁচা মুরগির বিষ্ঠা জমিতে প্রয়োগ করবেন না। এতে উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়া ও নাইট্রোজেন থাকায় গাছের শিকড় পুড়ে যেতে পারে।
  • সঠিক পরিমাণে প্রয়োগ করুন। অতিরিক্ত প্রয়োগে মাটির পিএইচ স্তর পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
  • সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন। যাতে এটি দূষিত না হয় এবং এর কার্যকারিতা বজায় থাকে।
  • কম্পোস্টিং সম্পন্ন হওয়ার আগেই ব্যবহার করবেন না। এতে রোগজীবাণু থাকতে পারে যা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর।

মুরগির বিষ্ঠা একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকরী জৈব সার যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, রাসায়নিক সার নির্ভরতা কমায় এবং স্বাস্থ্যকর সবজি ও ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। সঠিক প্রক্রিয়ায় এটি তৈরি ও প্রয়োগ করলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সঠিক উপায়ে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার করে আপনি কষিতে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

Item added to cart.
0 items - 0.00৳