ডিম পাড়া মুরগির উৎপাদনশীলতা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাদ্য, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই অসাবধানতার কারণে মুরগির দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়, যা ডিমের উৎপাদন হ্রাসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মুরগির পেটে চর্বি জমে গেলে তা মারাত্মক জটিলতার কারণও হতে পারে।
ডিমের মুরগির পেটে চর্বি জমার কারণ
ডিমের মুরগির দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমার মূল কারণগুলো হলো—
মুরগির অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য
- খাদ্যে অতিরিক্ত শর্করা ও ফ্যাট (চর্বি) থাকলে মুরগির শরীরে চর্বি জমতে পারে।
- অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ মুরগির ওজন বৃদ্ধি করে এবং চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ায়।
মুরগির অলস জীবনযাপন ও কম গতিশীলতা
- পর্যাপ্ত চলাফেরার সুযোগ না থাকলে শরীরে চর্বি জমতে পারে।
- যেসকল খামারি দেশি মুরগিকে সাধারণত খাঁচায় পালন করেন তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয় পর্যাপ্ত স্পেস এবং রানিং করার স্পেস কম থাকার কারণে।
মুরগির হরমোন ও জিনগত কারণ
- কিছু জাতের মুরগির চর্বি জমার প্রবণতা বেশি।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে হরমোনের পরিবর্তন শরীরে চর্বি জমার হার বাড়িয়ে দেয়।
মুরগির অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা
- সুষম খাদ্যের অভাব চর্বি জমার অন্যতম কারণ।
- বেশি প্রোটিনের পরিবর্তে বেশি শর্করা গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে।
মুরগির পেটে চর্বির লক্ষণ ও সমস্যা
মুরগির পেটে চর্বি জমার ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—
- ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা
- ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট ও অলসতা
- হঠাৎ মৃত্যু (Fatty Liver Syndrome)
- অতিরিক্ত চর্বির কারণে লিভারের সমস্যা
মুরগির পেটে চর্বি প্রতিরোধ ও প্রতিকার
মুরগির শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়—
মুরগির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা
- খাদ্যে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- উচ্চমানের প্রোটিন, খনিজ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
- ফিডে ফ্যাটের পরিমাণ কম রাখতে হবে।
- ডিম দেয়া মুরগি দানাদার খাবারের মধ্যে ধানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া
মুরগির ব্যায়াম ও চলাফেরার সুযোগ বৃদ্ধি
- মুরগির চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন।
- খামারে পর্যাপ্ত জায়গা রাখলে মুরগির শারীরিক কার্যক্রম বাড়বে।
মুরগির খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
- অতিরিক্ত খাবার না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার দিতে হবে।
- নির্দিষ্ট সময় পর পর খাবার সরবরাহ করলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ কমবে।
মুরগির লিভার ও চর্বি নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান সংযোজন
- ফিডে Choline, Methionine, Vitamin E, Selenium ইত্যাদি উপাদান সংযোজন করলে চর্বি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
- প্রাকৃতিক উপাদান যেমন অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে।
চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ
- পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
- লিভার সাপোর্ট ওষুধ প্রয়োগ করলে মুরগির লিভার সুস্থ থাকবে। প্রতি মাসের ১ সপ্তাহে লিভার টনিক এর কোর্স করিয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজনে আমাদের দেশি মুরগি পালন ক্যালেন্ডার টি সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
ডিম পাড়া মুরগির পেটে চর্বি জমার সমস্যা যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সুষম খাদ্যের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক খাদ্য সরবরাহ, পর্যাপ্ত চলাফেরার সুযোগ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করলে মুরগির ডিম উৎপাদনও বাড়বে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তাই খামারিদের অবশ্যই এসব বিষয়ের প্রতি সচেতন হতে হবে।