ডিম দেয়া দেশি মুরগির খাবার

ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে, দেশি মুরগি পালন আমাদের দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। দেশি মুরগি খামারে, ডিম দেয়া দেশি মুরগির সঠিক খাবার নিশ্চিত করা হলে মুরগি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়। আজকের এই লেখায় আলোচনা করবো ডিম দেয়া দেশি মুরগির খাবার এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে।

দেশি মুরগির খাদ্য তালিকা

দেশি মুরগির খাদ্য তালিকা তৈরি করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করলে ডিম উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পায়। সকলের সুবিধার জন্য, নিচে দেশি মুরগির জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা উল্লেখ করা হলোঃ

  • ধানের কুঁড়ো: ধানের কুঁড়ো দেশি মুরগির অন্যতম প্রধান খাদ্য। এটি সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর।
  • গমের ভুসি: গমের ভুসি শক্তির ভালো উৎস কিন্তু অতিরিক্ত গমের ভুসি মুরগির শরীরে চর্বি জমতে সাহায্য করে।
  • ভুট্টা: ভুট্টা মুরগির শক্তি সরবরাহ করে এবং এটি সহজে হজম হয়। ভুট্টা খাওয়ালে ডিম এবং মাংশের স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
  • সয়াবিন খাবার: সয়াবিন প্রোটিনের প্রধান উৎস। এটি ডিম উৎপাদনে অনেক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
  • সবজি ও ফলের উচ্ছিষ্ট: ফ্রেশ সবজি ও ফলের উচ্ছিষ্ট দেশি মুরগির জন্য খুবই উপকারী এবং ভিটামিনের অভাবে পূরণ করে।
  • ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান: ডিমের খোসা শক্ত রাখতে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। খনিজ উপাদানের জন্য পাথরী চুন বা ডোলোমাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।

দেশি মুরগির খাবার তৈরির প্রক্রিয়া

  • ধানের কুঁড়ো, গমের ভুসি, ভুট্টা, এবং সয়াবিন খাবার একটি নির্ধারিত অনুপাতে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
  • প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় মুরগিকে এই মিশ্রণ খাবারটি সরবরাহ করুন।
  • খাবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার পানি রাখুন।

দেশি মুরগির খাবারের সঙ্গে সম্পূরক উপাদান

ডিম দেয়া দেশি মুরগির খাদ্য তালিকায় কিছু সম্পূরক উপাদান যোগ করলে তাদের পুষ্টি চাহিদা ভালোভাবে পূরণ হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • ফিড অ্যাডিটিভস: ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যুক্ত ফিড অ্যাডিটিভস ডিম উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
  • মাছের গুড়া: এটি প্রোটিনের একটি উচ্চমানের উৎস।
  • চুন ও ক্যালসিয়াম পাউডার: এগুলি ডিমের খোসা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
  • বিভিন্ন ভেষজ উপাদান: তুলসি পাতা, নিম পাতা এবং রসুনের মিশ্রণ মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

দেশি মুরগির খাদ্য সরবরাহের সময়সূচি

দেশি মুরগির ডিম উৎপাদন বাড়ানোর জন্য খাবার সরবরাহের একটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।

  • সকালে: ভুট্টা এবং ধানের কুঁড়ো সরবরাহ করুন।
  • দুপুরে: সয়াবিন খাবার ও মাছের গুড়া দিন।
  • সন্ধ্যায়: গমের ভুসি এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার দিন।

দেশি মুরগিকে সঠিক খাদ্য সরবরাহের সুবিধা

  • মুরগির শরীর সুস্থ থাকে।
  • ডিম উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পায়।
  • মুরগির ডিমের গুণগত মান ভালো হয়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

দেশি মুরগি পালনে পরিবেশের গুরুত্ব

খাবারের পাশাপাশি মুরগির বাসস্থান এবং পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

  • পরিষ্কার বাসস্থান: মুরগির ঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। এতে রোগজীবাণু দূর হয়।
  • পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস: মুরগির ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।
  • পর্যাপ্ত স্থান: একসাথে বেশি মুরগি রাখলে তাদের খাবার গ্রহণ ও চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হয়। চেষ্টা করুন মুরগিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পেস দেয়ার জন্য।

দেশি মুরগির কিছু সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

ডিম দেয়া দেশি মুরগি পালন করতে গিয়ে কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:

  • খাদ্য গ্রহনের অনিচ্ছা: যদি মুরগি খাবার না খায়, তাহলে তাদের খাবারে ভিটামিন ও খনিজ সম্পূরক যোগ করুন।
  • ডিম কম দেওয়া: এটি খাদ্যের অভাব বা পুষ্টির ঘাটতির কারণে হতে পারে। সঠিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
  • রোগের প্রকোপ: রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত টিকা দিন এবং খামার পরিষ্কার রাখুন।

দেশি মুরগি পালনে বাস্তব উদাহরণ

অনেক খামারি দেশি মুরগির খাদ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে ডিম উৎপাদনে সফল হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, রাজশাহীর এক খামারি তার মুরগির জন্য ভুট্টা, সয়াবিন, এবং ক্যালসিয়াম মিশ্রিত একটি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে। এর ফলে তার খামারে ডিম উৎপাদন ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিকল্পিত পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন করলে এটি একটি দারুণ আয়ের উৎস হতে পারে। তাই খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যত্নবান হন এবং আপনার খামারকে সফলতার দিকে নিয়ে যান।

মন্তব্য করুন

Item added to cart.
0 items - 0.00৳